বিশ্ব ক্রিকেটে রাজনীতি নতুন কিছু নয়। তবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রশ্ন তুলেছে—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিদ্ধান্তগুলো কতটা ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থ এবং সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এতে পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যক সমর্থক কাঙ্ক্ষিত ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হবেন।
কিন্তু এই অবস্থান অনেকের কাছেই পরিচিত এক প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে—এই নীতি কি সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়? কারণ এর আগেও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে কোনো কোনো দল আয়োজক দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যেখানে আইসিসি ভিন্ন ধরনের সমাধান গ্রহণ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ক্রিকেটবিশ্বে বাড়তি আলোচনা তৈরি করেছে। আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ অংশ নিতে না পারায় শুধু একটি দলই নয়, বরং একটি বড় ক্রিকেট বাজার ও সমর্থকগোষ্ঠী টুর্নামেন্ট থেকে দূরে সরে গেল। এতে প্রতিযোগিতার বৈচিত্র্য এবং সমর্থকদের অভিজ্ঞতা—দু’টিই প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে অর্থনৈতিক বাস্তবতা একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। ভারতের বিশাল সম্প্রচার বাজার এবং বাণিজ্যিক প্রভাব আইসিসির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাভাবিকভাবেই, এই আর্থিক কাঠামোর ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০১৪ সালে ‘বিগ থ্রি’ কাঠামো চালুর পর থেকে অনেক ছোট ও মাঝারি বোর্ড অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বোর্ডগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে নীতিগত সিদ্ধান্তে ঐকমত্য তৈরি হলেও, সমতার অনুভূতি সবসময় বজায় থাকছে—এমনটি বলা কঠিন।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক মানকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্ক সংকেত—যে কোনো দেশই কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়; এটি সংস্কৃতি, আবেগ এবং অর্থনীতির সমন্বয়। এই খেলাটি টেকসই রাখতে হলে নীতিগত স্বচ্ছতা, সমতা এবং সকল সদস্য দেশের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এই প্রশ্নটি সামনে এসেছে—বিশ্ব ক্রিকেট কি সত্যিই সকলের জন্য সমান, নাকি ক্রমশ কিছু নির্দিষ্ট বাস্তবতার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে? এর উত্তরই আগামী দিনে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণ করবে।
তথ্যসূত্র-আল জাজিরা
অ্যান্ড্রু ফিদেল ফার্নান্দোর
লেখাটি সংক্ষীপ্ত করে লেখা
পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রিকেট সাংবাদিক এবং লেখক












