আদর্শিক অবস্থানে আপসহীন থাকবে জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান

আদর্শিক অবস্থানে আপসহীন থাকবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
আদর্শিক অবস্থানে আপসহীন থাকবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করব, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব।’

রোববার রাতে তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বৈঠকের উল্লেখ

পোস্টে জামায়াত আমির জানান, তিনি জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান তার আবাসিক কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সাক্ষাৎ জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নতুন অধ্যায় সূচিত হবে-এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

ডাঃ শফিকুর রহমান,জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান  ছবি-সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার

জামায়াত আমির বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি আরও জানান, ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সহিংসতা রোধে আশ্বাসের সাধুবাদ

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আলোচনায় তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিক যেন ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন-এটাই সবার প্রত্যাশা।

‘সংঘাত নয়, সংশোধনই লক্ষ্য’

জামায়াত আমির আরো বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের সমর্থন থাকবে। তবে যেখানে জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে তারা সোচ্চার থাকবেন।

তার ভাষায়, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয়, বরং পর্যবেক্ষণ।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করে স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *