স্পোর্টস ডেস্কঃ আইসিসি বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আগামী সপ্তাহের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না।
২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ছিল। তবে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়। বাংলাদেশের জায়গায় পরবর্তী দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।
পি সি বি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, আগামী সোমবার পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। তবে ০৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে পাকিস্তান খেলবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু বলেননি।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অসম সম্পর্কের কারণে আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ও সাবেক খেলোয়ারদের কিছু অংশ তাদের দলের না খেলার কোন কারণ দেখছে না বলে মতপ্রকাশ করছেন। আর বাংলাদেশের জন্য যতটুকু করার তা করেছেন যেমন যখন কেউ বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেনি পাকিস্তান তাদের পাশে থেকে প্রতিবাদ করেছে। তবে না খেলে শ্রীলংকার ক্ষতি করার কোন মানে হয় না।
কেন শুরু হলো বাংলাদেশ-ভারত-আইসিসি বিতর্ক?
তিন সপ্তাহ আগে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে অনুষ্ঠিতব্য তাদের সব ম্যাচ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আবেদন জানায়।
এর আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে হঠাৎ বাদ দেওয়া হয়। বিসিসিআই ‘সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন’কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে।
বিসিবির যুক্তি দেখিয়ে ছিল—যদি একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় ভারতে নিরাপদ না হয়, তবে পুরো দল ও সহায়ক স্টাফের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে আইসিসি এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, বাংলাদেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। পরে বাংলাদেশ তাদের দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাতেই অটল থাকে। পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন আইসিসির বিরুদ্ধে ভণ্ডামির অভিযোগ?
২০২৪ সালের শেষদিকে আইসিসি ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি চুক্তি অনুমোদন হয় যাতে দুই দেশ একে অপরের আয়োজিত টুর্নামেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। সেই ক্ষেত্রেই এই নীতি বা চুক্তি প্রযোজ্য হয়েছে।
আর ঐ নীতি বা চুক্তির প্রেক্ষাপটে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, একই সুবিধা বাংলাদেশকে না দেওয়ায় আইসিসির অবস্থান ভণ্ডামিপূর্ণ।
আইসিসির বোর্ড সভায় পাকিস্তানই একমাত্র পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন করে। আর অন্য সদস্য দেশের সবাই বাংলাদেশর বিপক্ষে মত দেন।
পাকিস্তানের অবস্থান ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পিসিবি মুস্তাফিজুর রহমানকে পাকিস্তানের সুপার লিগে খেলার প্রস্তাব দেয়। তার সঙ্গে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়, যদিও পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করে, পাকিস্তান টুর্নামেন্ট বয়কট করলে তার বড় ধরনের কূটনৈতিক ও ক্রীড়াগত প্রভাব এবং এতে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব আরও বাড়বে। এই বিতর্ক ক্রিকেট বিশ্বে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ওপর।