আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৫, রোববার
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৯টি আফগান সীমান্ত পোস্ট দখলে নিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতভর সংঘাতের পর রবিবার ভোরে এসব পোস্ট পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সূত্র।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, আফগান সেনাদের সঙ্গে তুমুল গোলাগুলির পর আফগানিস্তানের ডুরান মেলা, তুর্কমানজাই, শহিদান, কুনার ও চাগাই অঞ্চলের সীমান্ত পোস্টগুলো থেকে আফগান বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে যায়। এসময় কয়েক ডজন আফগান সেনা নিহত ও আহত হন, এমন দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
সংঘর্ষ চলাকালে পাকিস্তান সেনারা গোলাবারুদ, ট্যাংক, ড্রোন ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
প্রেক্ষাপট: কাবুলে বিমান হামলার পর উত্তেজনা
গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগান রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
ইসলামাবাদের দাবি— আফগান মাটিতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) নেতারা আশ্রয় ও সহায়তা পাচ্ছিলেন।
ওই হামলায় টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেসুদ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ক্বারী সাইফুল্লাহ মেসুদ নিহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে তালেবান সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
এই হামলার পর আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে এবং এমন হামলা “মারাত্মক পরিণতি” ডেকে আনবে।
পাল্টা হামলা ও রাতভর সংঘর্ষ
শুক্রবার রাতে আফগান সেনারা পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানের আঙ্গুর আড্ডা, বাজাউর, কুররম, দির, চিত্রাল ও বারামচা এলাকায়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়, ফলে সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয় যা রাতভর স্থায়ী হয়।
পাকিস্তানের সামরিক সূত্রের দাবি, “আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করেছি। আফগান বাহিনীর একাধিক পোস্ট এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।”
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে
এই ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘ ও প্রতিবেশী দেশগুলো সীমান্তে মানবিক সংকট ও উদ্বাস্তু প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
🔗 সূত্র: জিও নিউজ, পিটিভি নিউজ, পাকিস্তান সামরিক সূত্র











