মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত সদ্য উন্মুক্ত নথিতে উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা জেফ্রি এপস্টাইন কেলেঙ্কারিকে শুধু যৌন পাচার মামলার গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংযোগের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এফবিআইয়ের এক গোপন মানব সূত্রের (CHS) বক্তব্য অনুযায়ী, এপস্টাইন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।
এই দাবি সরাসরি কোনো আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত না হলেও, সরকারি নথিতে এর উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে-এপস্টাইন কি কেবল একজন প্রভাবশালী অর্থদাতা ছিলেন, নাকি তার ভূমিকা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক ছিল?
গোপন সূত্র কী বলছে
গোপন নথি অনুযায়ী, ওই এফবিআই সূত্র দাবি করেছেন-এপস্টাইনের আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটজ এক সময় তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি অ্যালেক্স অ্যাকোস্টাকে জানিয়েছিলেন, এপস্টাইন “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোক্ত” ছিলেন।
ভাষ্য অনুযায়ী, ডারশোভিটজ ও এপস্টাইনের মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপ তিনি নথিবদ্ধ করেছিলেন। তার দাবি, এসব কলের পর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ডারশোভিটজকে ডিব্রিফিংয়ের জন্য তলব করত।
রাজনৈতিক সংযোগ ও প্রশিক্ষণের অভিযোগ
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এপস্টাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, বারাকের সময়েই এপস্টাইন গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ পান।
ধারণা অনুযায়ী, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এপস্টাইন একজন সহযোগী গোয়েন্দা এজেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকতে পারেন। যদিও নথিতে “পূর্ববর্তী প্রতিবেদন দেখুন” উল্লেখ থাকলেও, সেটির নির্দিষ্ট উৎস প্রকাশ করা হয়নি এখনো।
ডারশোভিটজ প্রসঙ্গ: আরও ধোঁয়াশা
এফবিআইকে দেওয়া তথ্যে দাবি করেন, ডারশোভিটজ একাধিকবার এমন মন্তব্য করেছেন, যা তাকে মোসাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করে। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি নাকি বলেছিলেন-যদি তিনি তরুণ হতেন, তাহলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তবে ডারশোভিটজ এসব অভিযোগ আগেও অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
আইন, রাজনীতি ও ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রশ্ন
এপস্টাইনের ২০০৮ সালের বিতর্কিত আবেদন চুক্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের মতে, তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি অ্যালেক্স অ্যাকোস্টার অনুমোদিত ওই চুক্তি এপস্টাইনকে অস্বাভাবিক আইনি সুবিধা দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে
-এই ছাড় কি কেবল রাজনৈতিক প্রভাবের ফল, নাকি এর পেছনে আরও গভীর রাষ্ট্রীয় স্বার্থ কাজ করেছিল?
ফলআউট: অভিজাতদের অস্বস্তি বাড়ছে
নথি প্রকাশের পর প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটসসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গেটস স্বীকার করেছেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, এপস্টাইনের ভুক্তভোগীরা বলছেন—এই নথি প্রমাণ করে, পুরো সত্য এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
এপস্টাইন কি কেবল একজন অপরাধী, নাকি তিনি ক্ষমতা, অর্থ ও গোয়েন্দা রাজনীতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বৃহৎ নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন? নতুন নথি সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও, স্পষ্ট করে দিয়েছে—এপস্টাইন কেলেঙ্কারির শেষ অধ্যায় এখনও লেখা বাকি।
উৎস : টিআরটি ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড এজেন্সিজ