রাষ্ট্র সংস্কারে বাধার প্রতিবাদে ডাকসু: ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামো রক্ষার অপচেষ্টা চলবে না’

রাষ্ট্র সংস্কারে বাধার প্রতিবাদে ডাকসু: ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামো রক্ষার অপচেষ্টা চলবে না’
রাষ্ট্র সংস্কারে বাধার প্রতিবাদে ডাকসু: ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামো রক্ষার অপচেষ্টা চলবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৩ নভেম্বর ২০২৫

রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের বিরোধিতা এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

রোববার (২ নভেম্বর) রাতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস. এম. ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।


‘বিএনপি তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে’

ডাকসুর বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিরোধিতা করে বিএনপি তরুণ প্রজন্মের ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে

বিবৃতিতে বলা হয়,

“জুলাই বিপ্লব ছিল বৈষম্য, অবিচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামোর বিরুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের ছাত্র–জনতার সম্মিলিত বিপ্লব। কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাই ছিল এই বিপ্লবের মূল ভিত্তি।”

ডাকসু নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন,

“জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও বিএনপি ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যকর করার বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেমন—পিএসসি, দুদক, ন্যায়পাল ও মহা-হিসাব নিরীক্ষকের মতো সংস্থায় স্বচ্ছ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নিয়োগের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তারা ক্ষমতার একচ্ছত্র দখলদারি বহাল রাখতে চাইছে।”


‘সংস্কারের পথে বাধা মানে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আটকে দেওয়া’

ডাকসুর নেতাদের দাবি, বিএনপি রাষ্ট্রগঠনমূলক সংস্কারের বিরোধিতা করে মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,

“জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশনের বিরোধিতা, অনুচ্ছেদ ৭০ সংস্কারে আপত্তি, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ পৃথক রাখার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান—এসবই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা। এই অবস্থান তরুণ প্রজন্মের ন্যায্য দাবি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।”


গণভোটের দাবি

ডাকসু নেতারা মনে করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, এটি জনগণের ম্যান্ডেট নির্ধারণের বিষয়।

তাদের ভাষায়,

“সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে থাকা উচিত। আর গণভোটই জনগণের মতামত নিশ্চিতের উপযুক্ত মাধ্যম। গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ ঠিক করবে দেশের স্বার্থে কোন কোন সংস্কার প্রস্তাব তারা সমর্থন করবে।”


‘ছাত্র–জনতা বাধা অতিক্রম করবে’

বিবৃতির শেষে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়,

“যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব রাষ্ট্রগঠনমূলক সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে ছাত্র–জনতা সেই বাধা অতিক্রমে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে। জুলাই বিপ্লব শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন নয়, বরং ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের আন্দোলন।”


সূত্র: ডাকসুর বিবৃতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *