ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে পরিস্থিতি কোথায় গড়াতে পারে—তা শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—মার্কিন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে—তা সত্য কি না, প্রয়োজন হলে তা “পরীক্ষা করেই দেখা হবে”।
খামেনির সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এমন মন্তব্য তিনি করতেই পারেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী নৌবহর প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং সেটি খুব কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁর আশা, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে সমঝোতা না হলে পরবর্তী পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটিই তখন দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
এর আগে জানুয়ারিতে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর মতে ইরানে “নতুন নেতৃত্বের সময় এসে গেছে”। গত মাসে বিক্ষোভ আরও জোরদার হলে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে “সহায়তা আসছে” বলে বার্তা দেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো নির্ধারিত আলোচনা নেই। তবে তিনি আলোচনায় ফেরার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেন, একটি “বিশাল নৌবহর” ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ভেনেজুয়েলার মতোই প্রয়োজনে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে এসে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে সম্মত হবে।
ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের দিকে পাঠানো নৌবহরটি ভেনেজুয়েলায় পাঠানো নৌবহরের চেয়েও বড়। একই সঙ্গে তিনি জুনে ইরানে চালানো হামলার প্রসঙ্গ তুলে সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী হামলা হলে তা আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিমান ও স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে তাৎক্ষণিক, ব্যাপক এবং নজিরবিহীন, যার লক্ষ্যবস্তু হবে হামলাকারী ও তাদের মিত্ররা।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) বা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যবস্থা ছিল।
তথ্যসূত্র-এনবিসি নিউজ











