সংবাদ:
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক ছয়টি মামলার রায় ঘোষণায় বিলম্ব ঘটেছে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে পলাতক আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করায় এসব মামলার বিচারকাজে নাটকীয় মোড় নেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণের কারণে সাক্ষ্য রিকল (পুনরায় জেরা) করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা রায় ঘোষণার সময়সূচিতে প্রভাব ফেলবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা চলছে ঢাকার দুটি বিশেষ জজ আদালতে।
আদালতের অগ্রগতি:
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালতে তিনটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
- এক মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন আসামি। ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
- দ্বিতীয় মামলায় আজমিনা সিদ্দিক, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন আসামি; ২২ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
- তৃতীয় মামলায় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন আসামি; ২৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
একইভাবে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বিচারাধীন আরও তিন মামলার সাক্ষ্যও শেষ পর্যায়ে।
- এক মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন আসামি; ২৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন।
- আরেক মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন আসামি; ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য শেষ।
- অপর মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামি; ২৩ সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আত্মসমর্পণের ঘটনা:
গত ২৯ অক্টোবর (বুধবার) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর অন্য তিন মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তার আত্মসমর্পণের ফলে সাক্ষ্য রিকলের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা রায় ঘোষণায় বিলম্ব ঘটাতে পারে।
দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, “আসামি আত্মসমর্পণ করলে সাক্ষী রিকল করা তার আইনগত অধিকার। আদালত চাইলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষী পুনরায় হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। তবে সব সাক্ষীকে রিকল করার অবকাশ নেই—শুধু সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরই পুনরায় জেরা করা যাবে।”
দুদকের অপর প্রসিকিউটর খান মো. মইনুল হাসান লিপন বলেন, “আত্মসমর্পণ করা আসামি তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার সুযোগ পেয়েছেন। এতে মামলার নিষ্পত্তিতে বড় বিলম্ব হবে না। অভিযোগগুলো স্পষ্ট ও দালিলিকভাবে প্রমাণিত।”
পটভূমি:
গত জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন মিথ্যা তথ্য ও হলফনামা দিয়ে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সদস্য কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, নুরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ ও ৫-এ এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
দুদক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেন এর আগে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, মামলাগুলোর রায় নভেম্বরের মধ্যে ঘোষণা হবে। তবে খুরশীদ আলমের আত্মসমর্পণের কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ যুক্ত হওয়ায় এখন রায় ঘোষণায় সময় লাগবে বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।











