সুতিয়া নিউজঃ ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার সাদাতের মনোনয়ন প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। বাতিলের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই সাথে দুই প্রভাবশালী প্রার্থী নির্বাচনী দৌড় থেকে আপাতত ছিটকে পড়ায় আসনটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হলেন বিএনপির একটি শক্ত অবস্থানের প্রতীক।এমনিতেই ত্রিশালের বিএনপিতে গ্রুপিং বিদ্ধমান থাকায় অনেকেই নিরব । মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক প্রকার হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিকল্প কৌশল বা শেষ মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক সমন্বয় সমাধান হবে কি না-তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
অপর দিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার সাদাত স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত প্রভাব , বাবা সাবেক সংসদ মরহুম আঃখালেক সাহেবের ভক্ত ও সংগঠনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় স্বতন্ত্র ভোটব্যাংক এখন দিকনির্দেশনাহীন। এই ভোটগুলো কার দিকে যাবে, সেটিই এখন নির্বাচনের অন্যতম বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অন্য প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে ব্যপক ভাবে বিশেষ করে জামাতের আসাদুজ্জামান সোহেলদের । যারা আগে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিলেন, এখন তারা মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি ভোটারদের আগ্রহও বেড়েছে—কারণ পরিচিত মুখের বাইরে গিয়ে নতুন সমীকরণে ভোট দেওয়ার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো-এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও আলোচনা জোরদার হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ত্রিশালের সংসদ নির্বাচন এখন আর আগের হিসাবে এগোচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত কে এই রাজনৈতিক শূন্যতা কাজে লাগাতে পারবে এবং কোন শক্তি ভোটারদের আস্থা অর্জন করবে-সেদিকেই এখন সবার নজর।










