ত্রিশালে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়নে উচ্ছ্বাস, ভোটযুদ্ধে নতুন সমীকরণ

ময়মনসিংহ-৭( ত্রিশাল) আসন থেকে লড়বেন ডা.মাহবুবুর রহমান লিটন
ময়মনসিংহ-৭( ত্রিশাল) আসন থেকে লড়বেন ডা.মাহবুবুর রহমান লিটন

স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহ | নভেম্বর ২০২৫

বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ত্রিশালের রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উচ্ছ্বাস ও সম্ভাবনার স্রোত।

মনোনয়ন ঘোষণায় উৎসবের আমেজ

শনিবার রাতে বিএনপি হাইকমান্ডের ঘোষণার পর থেকেই ত্রিশালের বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল হয়েছে। উপজেলা সদর থেকে গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই দেখা গেছে নেতাকর্মীদের মুখে এক ধরনের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের ঝলক।

ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা মজিবুর রহমান বলেন,

“ডা. লিটন আমাদের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা। তিনি দলের কঠিন সময়ে মাঠে ছিলেন, মানুষের পাশে ছিলেন। তার মনোনয়ন পাওয়া মানে ত্রিশালের মানুষের আশা পূরণ।”

ডা. লিটন: চিকিৎসক থেকে জননেতা

ত্রিশালের স্থানীয় রাজনীতিতে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন পরিচিত মুখ। পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও, রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান গড়ে উঠেছে মানুষের আস্থা ও নিবেদন থেকে। ২০০৩ সাল থেকে ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনকে সুসংগঠিত করেন। তাঁর উদ্যোগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ত্রিশালে দুইবার সফর করাতে সক্ষম হন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

স্থানীয়রা বলেন, “লিটন ভাই এমপি না হয়েও ত্রিশালে যে উন্নয়ন করেছেন, তা বহু এমপিও করতে পারেননি।”

মাঠে লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ

ত্রিশাল আসন ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অতীতে এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হয়েছে বেশ জমজমাটভাবে। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আসনটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. লিটনের প্রার্থিতা বিএনপির সংগঠনকে মাঠে নড়াচড়া এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও, ত্রিশালের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল।

ময়মনসিংহের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবুল কালাম আজাদ বলেন,

“ত্রিশালে ভোটের রাজনীতি সব সময়ই প্রভাবিত হয় ব্যক্তিত্ব ও সংযোগ দিয়ে। ডা. লিটনের গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের মাঠের উপস্থিতি বিএনপিকে একটি শক্ত অবস্থান এনে দিতে পারে।”

গ্রামীণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

ত্রিশালের ইউনিয়ন পর্যায়ে এখন আলোচনা একটাই—‘ধানের শীষে ডা. লিটন’। অনেকেই বলছেন, তিনি শুধু রাজনীতিবিদ নন, একজন সমাজসেবকও।
বৈলর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন,

“যখন কারো ওষুধ লাগে, চিকিৎসা লাগে—তখন লিটন ভাই পাশে থাকেন। এই মানুষটা এমপি হলে গরিবেরও একটা ভরসা থাকবে।”

নারী ভোটারদের মধ্যেও ডা. লিটনের জন্য বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় গৃহিণী রোকসানা বেগমের ভাষায়,

“ডা. লিটন আমাদের মেয়েদের জন্য কাজ করেন। হাসপাতালে সেবা বাড়ান, মেয়েদের স্কুলে সহায়তা দেন। উনি নির্বাচিত হলে উন্নয়ন হবে।”

বিএনপির আত্মবিশ্বাস, কর্মীদের ঐক্য

মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন, এবার ‘ধানের শীষ’ ফিরিয়ে আনবেন ত্রিশালে।
ত্রিশাল উপজেলা যুবদলের নেতা মাজহারুল আলম জুয়েল বলেন,

“আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামব। লিটন ভাইয়ের জয় শুধু একজন প্রার্থীর নয়, এটি হবে ত্রিশালের মানুষের বিজয়।”

শেষ কথা

মনোনয়ন ঘোষণার পর ত্রিশালে রাজনীতি যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয়, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন তাঁর দীর্ঘ তৃণমূল সংযোগ ও জনপ্রিয়তাকে কতটা ভোটে রূপ দিতে পারেন। একদিকে উচ্ছ্বাস ও আশার জোয়ার, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কৌশল—সব মিলিয়ে ত্রিশাল এখন জাতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *