আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই–আগস্টের ঘটনা–সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। গত বছরের অগাস্টে অভিযোগ দায়েরের পর শুরু হওয়া তদন্ত, প্রমাণ উপস্থাপন ও ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এখন মামলাটি রায়প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে।
অভিযোগ দায়ের থেকে তদন্ত শুরু
ট্রাইব্যুনাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতনের পর ১৪ আগস্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। জুলাই–আগস্টের জাতীয় অস্থিরতার সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলো তদন্তে অন্তর্ভুক্ত হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ মে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগসম্বলিত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত দল। ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে দালিলিক প্রমাণ, জব্দ তালিকা ও বিভিন্ন নথিপত্র অন্তর্ভুক্ত।
বিচার শুরুর পর্ব
দুই দফা শুনানি শেষে ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। এরপর ৩ আগস্ট প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়; আহত প্রত্যক্ষদর্শী খোকন চন্দ্র বর্মণ প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে ঘটনার বর্ণনা দেন। পরবর্তী পর্যায়ে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ঘটনার পটভূমি তুলে ধরেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং অন্যান্য সাক্ষীর জবানবন্দিও আদালতে উপস্থাপিত হয়। লেখক-গবেষক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুর আগে দেওয়া বিবৃতিও দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়।
দালিলিক প্রমাণ ও অডিও রেকর্ড
প্রসিকিউশন মামলায় ৯০টি তথ্যচিত্র এবং ৩৫টি বস্তুগত প্রমাণ জমা দেয়। বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাক্ষ্য দিতে গিয়ে চারটি ফোনালাপের অডিও ক্লিপ আদালতে শোনান, যা পরবর্তীতে যুক্তিতর্ক পর্বেও উপস্থাপন করা হয়।
রায়প্রক্রিয়া নিয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য
রায়ের তারিখ ঘোষণার পরদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আইনসঙ্গত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সব প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আদালতের রায় ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
সব সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায়।












