স্বাস্থ্য ডেস্ক | নভেম্বর ২০২৫
আজকাল সবচেয়ে আলোচিত শারীরিক সমস্যাগুলোর একটি হলো পিঠে ব্যথা (Back Pain)। কাজের অক্ষমতা ও ডাক্তারের কাছে যাওয়া—উভয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এটি। পিঠে ব্যথা বলতে পিঠের যেকোনো অংশে ব্যথাকে বোঝায়—ঘাড়, পিঠের মাঝখান বা কোমর। এর মধ্যে কোমরের ব্যথা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথা যদিও অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি গুরুতর নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৯০ শতাংশ জীবনের কোনো না কোনো সময় পিঠে ব্যথায় ভোগেন।
কারা বেশি আক্রান্ত?
সাধারণত যেকোনো বয়সেই পিঠে ব্যথা হতে পারে, তবে ৩০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী মানুষদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পিঠে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন।
️ পিঠে ব্যথার ধরন
- স্বল্পস্থায়ী ব্যথা: ৬–১২ সপ্তাহ স্থায়ী
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: ১২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী
সাধারণ কারণসমূহ
পিঠে ব্যথা হতে পারে পেশিতে টান, ডিস্কের সমস্যা, বা গঠনগত জটিলতার কারণে। প্রধান কারণগুলো হলো:
- ভুল ভঙ্গিতে বসা বা ভারী কিছু তোলা
- মেরুদণ্ডের ডিস্ক ফেটে যাওয়া বা বড় হয়ে যাওয়া
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা অস্টিওপোরেসিস
- সংক্রমণ বা টিউমার
- দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা কম্পিউটার ব্যবহার
- মানসিক চাপ, স্থূলতা বা ধূমপান
️ ঝুঁকির কারণ
- বয়স বৃদ্ধি (৩০–৪০ বছর থেকে শুরু)
- নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি
- ব্যায়ামের অভাব ও স্থূলতা
- ডিপ্রেশন বা উদ্বেগ
- গর্ভধারণ
- ধূমপান
️ প্রতিরোধের উপায়
১️⃣ নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হাঁটা বা হালকা ওঠা-বসা পেশি শক্ত রাখে ও রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
২️⃣ সঠিক খাদ্যাভ্যাস: ফাস্টফুড পরিহার করে ফল ও শাকসবজি বেশি খান। এতে স্নায়ু সুস্থ থাকে।
৩️⃣ শোয়ার সঠিক ভঙ্গি: চিত হয়ে নয়, পাশ ফিরে শোয়া অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে বালিশ ব্যবহার করুন।

৪️⃣ সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখুন: কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারে সোজা হয়ে বসুন, ঘাড় না ঝুকিয়ে স্ক্রিন সামনে আনুন।
৫️⃣ মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম ও বিশ্রাম চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৬️⃣ ধূমপান ত্যাগ করুন: ধূমপান রক্তসঞ্চালন ব্যাহত করে এবং মেরুদণ্ডে অক্সিজেন সরবরাহ কমায়।
চিকিৎসা
ব্যথা হলে গরম বা ঠান্ডা সেঁক আরাম দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ১২ সপ্তাহের বেশি ব্যথা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
“পিঠে ব্যথার মূল প্রতিকার হলো নড়াচড়া ও সচেতনতা। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখলে পিঠ থাকবে মজবুত ও ব্যথামুক্ত।”