বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন-আমরা আধিপত্যবাদ মানব না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারও আমরা চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
শনিবার (৩১শে জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, “চৌদ্দগ্রামবাসী যদি আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত চৌদ্দগ্রামবাসীকেই নিতে হবে।
যুবকদের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা বাংলাদেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। তার প্রমাণ—আমাদের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই তরুণ। আমরা ক্ষমতায় গেলে সর্বস্তরের মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর সরকার গঠন করব। এ দেশে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষ-নাগরিক হোক বা না হোক-ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। কোনো রাজনৈতিক দল বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জাতি, বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি এই দেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে অত্যাচার, খুন ও গুম হয়েছে। আমরা এসব চাই না। এবারের নির্বাচন হবে জনগণের সেবার জন্য সরকার গঠনের বন্দোবস্ত।
তিনি আরো বলেন,আমরা নির্বাচিত হলে এই জাতিকে আর কোনো বিভক্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে তারুণ্যের বাংলাদেশ, যৌবনদীপ্ত বাংলাদেশ। সব বাধা অতিক্রম করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোকেও আমরা আহ্বান জানাব-একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করার।”
তবে অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক ডাকাতি, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধ চলবে না। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ভালো শিক্ষা ছাড়া ভালো জাতি গঠন সম্ভব নয়—বেটার এডুকেশন, বেটার নেশন।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় জোটের শরিক ও কুমিল্লা–১১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
সূত্র-আমার দেশ










