এবার আধুনিক জিএসএমএ (GSMA) প্রযুক্তি নিয়ে। সাত বছর বন্ধ থাকার পর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (পিবিটিএল) আগামী মাস থেকেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্কে সিটিসেল এবার যেকোনো মোবাইল বা স্মার্টফোনে কাজ করবে।
নতুন রূপে পুরোনো ব্র্যান্ড
একসময় দেশের প্রথম মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিডিএমএ (CDMA) প্রযুক্তিতে পরিচালিত সিটিসেল এখন পুরোপুরি জিএসএমএ ৪জি ও ৫জি প্রযুক্তিতে রূপান্তর করছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স নিশাদ আলী খান জানান, “সর্বনিম্ন কলরেট ও মেয়াদবিহীন ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে আমরা গ্রাহকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা আনব।”
রাজনৈতিক বিতর্কের পর প্রত্যাবর্তন
২০১৬ সালে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কোম্পানির দাবি ছিল—তাদের মালিকানায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের পরিবারের সম্পৃক্ততার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই লাইসেন্স ও তরঙ্গ বাতিল করা হয়েছিল। তবে বিটিআরসি জানায়, বিপুল পরিমাণ বকেয়া (৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা) পরিশোধ না করার কারণেই নেটওয়ার্ক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সিটিসেল ২৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করে এবং সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সরকারের প্রাপ্য বকেয়া দাঁড়ায় ১২৮ কোটি টাকা। আদালতের রিপোর্টে দেখা যায়, পূর্বে ১০ মেগাহার্জ তরঙ্গের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছিল ৮.৮২ মেগাহার্জ—যা লাইসেন্স পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাজারে ফেরার চ্যালেঞ্জ
নেটওয়ার্ক বন্ধের ফলে প্রায় এক হাজার কর্মচারীসহ প্রায় দুই লাখ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এখন নতুন করে বাজারে ফিরতে হলে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নেটওয়ার্ক কভারেজ বিস্তারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সিটিসেল ফিরে এলে প্রতিযোগিতা বাড়বে—তবে তাদের টিকে থাকতে হলে টেকনোলজি ও সেবার মানে বিপ্লব আনতে হবে।”
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরু করা সিটিসেল ১৯৯৩ সালে প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড নামে পরিচিতি পায় এবং দেশের প্রথম মোবাইল সেবা প্রদানকারী হিসেবে ইতিহাস গড়ে। এবার আধুনিক প্রযুক্তি, কম খরচের কলরেট ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারা আবারও বাজারে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারে আশাবাদী।












