“সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব” জামায়াতের হুঁশিয়ারি, ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা

“সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব” — বিজেপির নয়, জামায়াতের হুঁশিয়ারি, ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা
“সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব” — বিজেপির নয়, জামায়াতের হুঁশিয়ারি, ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, “সোজা আঙ্গুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙ্গুল বাঁকা করা হবে — তবু ঘি লাগবেই।” জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং নভেম্বরে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি আদায় না হলে সরকারিকে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পৌনে ১২টায় মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। পরে জামায়াতে ইসলামী ও যুগপৎ আন্দোলনের অন্য অংশীদারদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা হয়। পল্টনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি সরকারের ‘চালাকি’ উল্লেখ করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা হতাশ হলেও রাজপথের আন্দোলন চলবে — প্রয়োজনে জীবন-রক্তও দেবেন, কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক।

ডা. তাহের আরও বলেন, সরকার সময়ক্ষেপণ করছে, এভাবে আরও ১৫ দিন সময় নিলে গণভোটের সময় থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন: “যদি বুঝতে কষ্ট হয়, তাহলে আসেন বসি আলোচনা করি। আমরা শান্তি চাই, সমাধান চাই, জাতীয় নির্বাচন চাই।” তিনি দাবি করেন, আলোচনার জন্য একটি রেফারি (তৃতীয় পক্ষ) প্রয়োজন, এবং জামায়াত ইতোমধ্যে দুই সদস্যের আলোচনা কমিটি গঠন করেছে; সরকারের দিক থেকেও কমিটি গঠন করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে তিনি প্রধান উপদেষ্টার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি অনুরোধ জানান নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেিং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার — যাতে প্রশাসন কোন একটি দলের অনুসারী হয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় তাহলে দেশ আবার অন্ধকারে যাবে।”

ডা. তাহের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পারার কথাও জানান এবং বলেন, পরে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করবেন। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন — কোনো দল ভোটকেন্দ্র দখল করলে সেই আসনের ভোট বাতিল হবে; প্রত্যেককে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

সমাবেশ শেষে ১১ নভেম্বর ঢাকায় ডাকানো মহাসমাবেশ সফল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন ডা. তাহের। সমাবেশে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন দলের নেতা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *