স্টাফ রিপোর্টার │ ঢাকা │ ২৭ অক্টোবর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের সঙ্গেই রাজনৈতিক যোগাযোগ রাখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জোটে যোগ না দিলেও সম্ভাব্য আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার বিষয়ে উভয় দলের দিকেই দরজা খোলা রেখেছে দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপি ইতোমধ্যে ১৫০–১৬০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করছে। দলীয় প্রতীক এবং জুলাই জাতীয় সনদের আইনি স্বীকৃতির বিষয়টি সুরাহা হলেই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
🔹 বিএনপি ও এনসিপির আসন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এনসিপিকে ২০টি আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দলের ধারণা, ঢাকার অন্তত চারটি আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,
“এনসিপির সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ আছে। তবে জোটবদ্ধ হব কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে অনেক কিছু সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।”
🔹 ঢাকায় এনসিপির প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা
আসন সমঝোতা হোক বা না হোক, ঢাকার কয়েকটি এলাকায় এনসিপি প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা ও সাভার—যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এনসিপির সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
🔹 জামায়াতের সঙ্গেও যোগাযোগ
বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও এনসিপির নেতারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালাচ্ছেন। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতও নির্বাচনে এনসিপিকে সঙ্গে রাখতে আগ্রহী এবং তারা এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি আসন ও সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
“এনসিপির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। জুলাই সনদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি—নির্বাচন ঘনালে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।”
🔹 তৃতীয় জোটের সম্ভাবনা এখনো খোলা
দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিএনপি–জামায়াতের বাইরে অন্য কিছু মধ্যমপন্থী দলের সঙ্গে তৃতীয় জোট গঠনের আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য অংশীদার দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন,
“আমরা এখনো ওপেন অবস্থানে আছি। যদি অবস্থানগত ঐক্য হয়, তাহলে যেকোনো দলের সঙ্গেই জোট বা সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এখনো কারও সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি।”
🔹 নির্বাচনী প্রস্তুতি ও দলীয় অবস্থান
এনসিপি নেতাদের দাবি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রক্রিয়া শেষ হলে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সূত্র: প্রথম আলো, দলীয় সূত্র, নিজস্ব প্রতিবেদক










