স্টাফ রিপোর্টার | ময়মনসিংহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় উত্তাপ ছড়িয়েছে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে থেকে ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তালিকায় গৌরীপুর আসনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন-এর নাম প্রকাশের পরই স্থানীয় বিএনপির একাংশে ক্ষোভ দেখা দেয়।
হিরণের সমর্থকদের বিক্ষোভ
তালিকা ঘোষণার পরপরই ধানের শীষের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ–এর সমর্থকরা।
সোমবার রাতেই শহরের উত্তর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাটবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘হিরণ গৌরীপুর বিএনপির প্রাণ’
বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সুজিত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিরাজ, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম প্রত্যয়, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহজাহান আকন্দ সুমন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম পিয়াস প্রমুখ।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সেলিম আজাদ।
হিরণের সহধর্মিণী সাইদা মাসরুর বলেন,
“১৭ বছর ধরে আমার স্বামী দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। কখনও ছিলেন জেলে, কখনও পালিয়ে বেড়িয়েছেন। দলের জন্য তিনি সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। জুলাই আন্দোলনে আমার স্বামী ছিলেন কারাগারে, আমি মেয়েকে নিয়ে ছিলাম রাজপথে।”
পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সুজিত কুমার দাস বলেন,
“হিরণ গৌরীপুর বিএনপির প্রাণ। আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অসংখ্য মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর মনোনয়ন বাতিল না করা হলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।”
কেন্দ্রীয় প্রার্থী ও আহ্বান
এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “দলীয় মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের নির্দেশনা ব্যতীত কাউকে আনন্দ মিছিল না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
প্রেক্ষাপট
গৌরীপুর আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিদ্যমান। স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজন যদি দ্রুত নিরসন না হয়, তবে নির্বাচনে বিএনপির সংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।










