আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরব সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে সেটিকে অপর দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
সৌদি নিরাপত্তায় নতুন সঙ্গী পাকিস্তান
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হওয়ায় রিয়াদ বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদির জন্য নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি দুনিয়ার একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তানকে পাশে পাওয়ায় সৌদি প্রতিরক্ষা আরও দৃঢ় হবে।
পারমাণবিক প্রতিরোধ নীতি নিয়ে ধোঁয়াশা
চুক্তিতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি। তবে পাকিস্তানের সক্ষমতা সৌদি প্রতিরক্ষার জন্য এক ধরনের ‘পরোক্ষ আশ্বাস’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও দুই দেশ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি, তবু আঞ্চলিক কূটনীতিতে এর প্রভাব সুস্পষ্ট।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
ইরান: উপসাগরীয় নিরাপত্তা ভারসাম্যে এই চুক্তি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছে।
ভারত: ইসলামাবাদ-রিয়াদ ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরব রাষ্ট্রগুলো: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা থেকে সরে গিয়ে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি বহুমুখী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই চুক্তি শুধু পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়নি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্রে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র প্রভাবও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
👉 সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সৌদি আরব এখন শুধু ওয়াশিংটনের ছায়াতেই থাকতে চাইছে না; বরং পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করছে।










