ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে’র কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে তরুণ ভোটারদে’র উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম একটি বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে দলীয় লয়্যালটি নয়, বিবেক ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন।
৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিজে’র ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস লেখেন,
“ভোট দিন বিবেকের নির্দেশে। আপনা’র পাশে দাঁড়াতে পারে এমন কাউকে, যে কালকেও থাকবে, সংকটেও পাশে থাকবে।”
পরিবর্তনের বার্তা:
ডাকসু নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নধর্মী এই আহ্বান ইতোমধ্যে আলোচনা’র জন্ম দিয়েছে। যেখানে প্রচলিত ছাত্র সংগঠনগুলো মূলত নিজ নিজ দলীয় ছত্র ছায়ায় প্রার্থী দাঁড় করিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে, সেখানে সারজিস আলম’র মতো জাতীয় পর্যায়ের একজন নেতা অরাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচন-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন।
নির্বাচনের চিত্র:
- নির্বাচনে এবারে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮টি পদের জন্য।
- ৩৯,৭৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকা’র প্রয়োগ করছেন, যার মধ্যে ১৮,৯০২ জনই নারী ভোটার।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্র ও ৮১০টি বুথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি:
সারজিস আলম একজন পরিচিত নাম-পূর্বে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে’র দায়িত্বে ছিলেন এবং ডাকসু নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। তবে পরে তিনি দলীয় রাজনীতি থেকে সরে এসে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন, যেমন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-তে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, যেখানে তার অবস্থান তরুণ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ভর রাজনীতির পক্ষে।
সারজিস আলম বলেন,“নেতৃত্ব শুধু পরিচয়ে হয় না, আচরণ ও দায়িত্বে প্রকাশ পায়। নির্বাচনে জয়-পরাজয় বড় নয়, বরং সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।”
উপসংহার:
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর প্রাক্কালে সারজিস আলমে’র বিবেক নির্ভর ভোটে’র আহ্বান ছাত্ররাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা যোগ করেছে। তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে’র গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










