গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরে উল্লাসের জোয়ার

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরে উল্লাসের জোয়ার
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরে উল্লাসের জোয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারিখ: ৯ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসক রাজনৈতিক সংগঠন হামাসের মধ্যে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে এই চুক্তিতে সই করেছে উভয় পক্ষ।

চুক্তি ঘোষণার পরই গাজার বিভিন্ন শহরে আনন্দের জোয়ার বইছে। কেউ খুশিতে কাঁদছেন, কেউ গান গাইছেন, আবার কেউ বাঁশি ও ড্রাম বাজিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। খান ইউনিস, দেইর আল বালাহ ও গাজা সিটিতে মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাত্রি।

গাজার বাসিন্দা পাঁচ সন্তানের মা ঘাদা রয়টার্সকে বলেন,

“হ্যাঁ, আমি কাঁদছি; কিন্তু এটা আনন্দের অশ্রু। মনে হচ্ছে নতুন করে আমাদের জন্ম হলো। আশা করছি, এই ভয়াবহ যুদ্ধের শেষ হচ্ছে।”

ঘাদা জানান, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গত ১৫ মাস ধরে তাঁবুতে বসবাস করছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রথমে ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতার এতে সম্মতি দিলেও হামাস তখন নীরব ছিল। পরে ৩ অক্টোবর হামাস সম্মতি জানায় এবং পরের দিন ইসরায়েলকে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

৬ অক্টোবর মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনের আলোচনা শেষে গতকাল রাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক ধাপে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করে।

চুক্তি অনুযায়ী, ছয় সপ্তাহের এই পর্যায়ে হামাস তাদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করবে, কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে এবং ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে।

গাজার বাসিন্দা আহমেদ দাহমান বলেন,

“অবশেষে গাজায় রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে — এটা আনন্দের খবর। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কীভাবে টিকে থাকব, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। ফিরলে হয়তো কিছুই অবশিষ্ট পাব না।”

তার মা বুশরা বলেন,

“এই যুদ্ধবিরতি আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু অন্তত অনেকের জীবন রক্ষা পাবে।”

মানবিক সংকট ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এই চুক্তি গাজার মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে এসেছে। তবে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *