এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি সদস্যরা;প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি সদস্যরা;প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান
এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি সদস্যরা;প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এমপি হিসেবে শপথ নিলেও তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি।

আজ বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। প্রায় দুই দশক পর দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে। এর আগে ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেন খালেদা জিয়া। তার ২০ বছর পর ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তবে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত তারেক রহমান পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের জয়ী সারোয়ার আলমগীর এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর গেজেট প্রকাশ ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে।

বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের বৈঠকে জোটের শরিকদের আমন্ত্রণ জানাতে পারে। সম্ভাব্য আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর। তাদের প্রতিমন্ত্রী করার আলোচনা রয়েছে। এছাড়া সংসদীয় দলে উপনেতা, চিফ হুইপ ও ০৬ জন হুইপ নির্বাচনের কথা রয়েছে। উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় আছে।

অন্যদিকে বিরোধী দলে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটও তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক করবে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও হুইপ নির্বাচন করা হবে।

এমপি হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিধান নেই। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা উল্লেখ থাকলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও এ ধরনের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই বলে তাদের মত।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—উভয় হিসেবেই শপথ নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপি সদস্যদের সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া শুরুর দিকেই জটিলতায় পড়তে পারে এবং নতুন রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রাপ্ত প্রতিবেদন (জাতীয় সংসদ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্র)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *