মমেক হাসপাতালে ডিজির সঙ্গে অশোভন আচরণ, চিকিৎসককে অব্যাহতি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিজির সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় চিকিৎসককে অব্যাহতি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিজির সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় চিকিৎসককে অব্যাহতি

স্টাফ রিপোর্টার |ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহের  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক চিকিৎসকের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক বাকবিতন্ডের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হবার পর বাকবিতন্ড কারী চিকিৎসককে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন, মহাপরিচালক ‘তাচ্ছিল্যপূর্ণ’ ভাবে পরপর তিনবার তার নাম জানতে চাওয়ায় তিনি অসম্মানিত বোধ করে ওমন ব্যবহার দেখিয়েছেন।এবং তিনি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়ম সহ নিজেদের নানা ভাবে বঞ্চিত ও হয়রানির নানা অভিযোগ তুলেছেন।

মহাপরিচালকের সঙ্গে  এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তার নাম্বারে ফোন করে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে অনুরোধ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগেরই সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদের মতে “চিকিৎসক ও ডিজির বাকবিতন্ডের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনা সংকটের করুন অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া ওই চিকিৎসক ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সাথে এমন আচরণ করা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী উল্লেখ করে, মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসক ধনদেব বর্মণকে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই দিনই বিকেলেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

ধনদেব বর্মণ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ হিসেবে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে দায়িত্ব পালন করছিল। তিনি চলতি বছরের জুলাই মাসে আবাসিক সার্জন থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নিত হন।  এক বছর পরেই তার অবসরে প্রস্তুতিকালীণ ছুটিতে যাওয়ার কথা ।

ভিডিওতে দেখা যায় মহাপরিচালক (ডিজি) আরও কয়েকজনের সাথে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকেন সেখানে ব্যবহৃত টেবিল দেখে তিনি জানতে চান ওটিতে টেবিল কেন। ধনদেব বর্মণ জানান  টেবিল ডাক্তারদের লেখার জন্য। এ বাকবিতন্ডের সময় সঙ্গে থাকা লোকজনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন “অ্যাই ভিডিও করো”।

এক পর্যায়ে ডিজি ধনদেব বর্মণকে উদ্দেশ্য করে বলেন কে আপনি? এ সময় ধনদেব বর্মণ এর প্রতিবাদ করেন।

ডিজি ধনদেব বর্মণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে এ ভাবে কথা বলছেন, কথাবার্তা ঠিক করে বলবেন। যারা ডিজির সঙ্গে এই ব্যবহার করে তারা রোগীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে”।

উত্তরে ধনদেব বর্মণ বলেন, “আমার ব্যবহার রোগীর সঙ্গে অনেক ভালো, কিন্তু দায়িত্বে থাকাদের সঙ্গে আমার ব্যবহার ভালো না।”

এক পর্যায়ে ডিজি ধনদেব বর্মণকে বলেন, “আপনি তো ব্যবহার শিখেন নাই”। উত্তরে বর্মণ বলেন, “ঢাকায় তো তিন দিনের প্রশিক্ষণ ছিল; আপনার দুদিন আসার কথা থাকলেও, একদিনও আসেননি।”

বিতর্কের এক সময়  বর্মণ বলেন, “আমাকে সাসপেন্ড করেন, নো প্রবলেম”।

এরপরেই তাকে ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে শনিবার বিকেলেই কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *