ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হকার ও ভবঘুরে উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক, ডাকসুর অভিযানে উত্তেজনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হকার ও ভবঘুরে উচ্ছেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হকার ও ভবঘুরে উচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার │ ঢাকা │ ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে হকার ও ভবঘুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে ডাকসুর নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে উচ্ছেদ অভিযান চালান।

ডাকসুর নেতারা বলছেন, তাঁরা যাঁদের উচ্ছেদ করছেন, তাঁদের অনেকেই মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে; এসব ব্যক্তির কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তবে উচ্ছেদ অভিযানে দোকান ভাঙচুর ও দোকানিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।


🔹 উচ্ছেদ অভিযান ও ডাকসুর অবস্থান

শনিবার রাতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বিন নেছারী ও সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তাঁদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।

জুবায়ের বলেন,

“হকার উচ্ছেদ বলতে অনিবন্ধিত ভ্রাম্যমাণ দোকান সরানো হচ্ছে। আর ভবঘুরে বলতে বোঝানো হচ্ছে তাঁরা, যারা ক্যাম্পাসে অস্থায়ীভাবে বাস করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই এই উদ্যোগ।”

ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম ফেসবুকে লেখেন,

“ক্যাম্পাসে কথিত হকার বা ভবঘুরেদের আড়ালে এক শক্তিশালী চক্র কাজ করছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা নেব। বহিরাগত উচ্ছেদে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”


🔹 উচ্ছেদের প্রতিবাদ ও দোকানিদের ক্ষোভ

উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে শনিবার রাতেই বিক্ষোভ করেন ক্যাম্পাসের হকার ও ছোট খাবারের দোকানিরা। তাঁদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘ ২০–৩০ বছর ধরে ক্যাম্পাসে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদ করলে তাঁদের বেঁচে থাকার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা ইসরাত জাহান (ইমু) বলেন,

“আমি নিজের চোখে দেখেছি, দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে, বয়স্ক দোকানিদের হাত-পায়ে ধরে অনুনয় করতে হয়েছে। এমন আচরণ অমানবিক।”


🔹 ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

অভিযান চলাকালে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়েরের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক

আরশাদুল তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,

“যে ক্যাম্পাসে আমি রক্ত দিয়েছি, আজ সেখানে চা খেতে এসে ডাকসুর নেতাদের হাতে হুমকির মুখে পড়েছি।”

জুবায়ের পাল্টা পোস্টে লিখেছেন,

“অভিযানের সময় আরশাদুল আমাদের কাজে বাধা দেন। তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। ক্যাম্পাসে মাদককারবার ও অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করছি।”


🔹 পক্ষ-বিপক্ষ প্রতিক্রিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন,

“ডাকসুর নামে উচ্ছেদের নামে যে সহিংসতা হচ্ছে, তা গঠনতন্ত্রবিরোধী। ডাকসুর কোনো অধিকার নেই ক্যাম্পাসে বলপ্রয়োগের।”

প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন,

“শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”


🔹 পটভূমি

গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসছে। গত মে মাসে ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার পর উদ্যান এলাকা থেকে অনেক দোকান উচ্ছেদ করে পুলিশ। পরে সেই দোকানিরা টিএসসি ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন। এবার তাঁদেরই আবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *