ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতার তিন দশকেরও বেশি শাসন ইরানকে একটি শক্তিশালী মার্কিন-বিরোধী শক্তিতে রূপান্তরিত করেছিল।
১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেইনী -এর মৃত্যুর পর অনেকে যখন তাকে দুর্বল ও আপসহীন নেতৃত্বের জন্য অযোগ্য বলে মনে করেছিলেন, তখনই দেশের ক্ষমতার শীর্ষে ওঠেন আলি খামেনেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতা কাঠামোর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
তার শাসন আমলে ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করে। একইসঙ্গে দেশে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনে কঠোর অবস্থান নেন খামেনি। সমালোচকদের অভিযোগ, ভিন্নমত দমনে তার সরকার লৌহমুষ্টি ব্যবহার করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে কয়েক দশকের টানাপোড়েন তার শাসনামলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। খামেনি বরাবরই দাবি করেছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ এবং এটি অস্ত্র তৈরির জন্য নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এ দাবির বিষয়ে সন্দিহান ছিল।
২০২৫ সালে নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর কড়া সমালোচনা করেন খামেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “অভদ্র ও অহংকারী” আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নির্ধারণ করার অধিকার ওয়াশিংটনের কে দিয়েছে।
খামেনির বক্তৃতায় প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রকে “মহান শয়তান” হিসেবে উল্লেখ করা হতো—যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব-পরবর্তী মার্কিন-বিরোধী আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
তার মৃত্যু এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র এবং দেশের ভেতরে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে, ভিন্নমত ও সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
সূত্র- রয়টার্স









