মধ্যপ্রাচ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যার ফলে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ এবং আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা করেছেন যে হামলাটি “সর্বপ্রথম প্রতিরোধমূলক আক্রমণ” হিসেবে পরিকল্পিত ছিল, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকি নির্মূল করা যায়।
তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জমহুরি এলাকা এবং উত্তরাঞ্চলীয় সাইয়্যেদ খানদানসহ রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা ইরানি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও হামলার উদ্দেশ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরের মতোই দাবি করেছেন যে হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার দ্বারা সৃষ্টি হওয়া “ভয়াবহ হুমকি” দূর করা এবং আমেরিকান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবরণ এখনো দেয়া হয়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, এই অভিযানটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং উভয় দেশই যুদ্ধবিমান ও সমুদ্রবাহিনীর শক্তি ব্যাপকভাবে মোতায়েন করেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তুতি
ইরান মেডিয়া ও সরকারি সূত্রগুলোও বিস্ফোরণের খবর দিয়ে জানিয়েছে যে তেহরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ধরা পড়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা কতই না বলেছেন যে তারা “চূর্ণবিচূর্ণ প্রতিশোধ” নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং তারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েল ও নাগরিক সুরক্ষা
ইসরায়েল সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থার ঘোষণা করেছে এবং দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে — জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে যাতে সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়।
ইসরায়েলের আকাশসীমা সমস্ত বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিমানবন্দরে জরুরিভাবে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সকল কর্মীদের জন্য আশ্রয় ইস্যু করেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
- ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের জাতীয় আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতি নজরদারি করছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যকে সম্ভাব্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার দিকে এগোতে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র-আল জাজিরা









