নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাস, লঞ্চ বা ট্রেনে ভ্রমণের সময় ইচ্ছেমতো মালামাল নেওয়া গেলেও বিমানে সেই সুযোগ নেই। আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীর হ্যান্ড লাগেজ (কেবিন ব্যাগ) ও বুকিং লাগেজ (চেকড ব্যাগ)—দুই ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
🧳 ১) কেবিন বা হ্যান্ড লাগেজ
ওজন ও আকারের সীমা:
বিদেশগামী যাত্রীরা সাধারণত সর্বোচ্চ ৭ কেজি ওজনের হ্যান্ড লাগেজ নিতে পারেন। এর আকার ২০ ইঞ্চি লম্বা, ১৫ ইঞ্চি চওড়া ও ১০ ইঞ্চি গভীরতা অতিক্রম করলে তা বিমানে নেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত হলে লাগেজটি বুকিং লাগেজ হিসেবে জমা দিতে হয়।
যা নেওয়া যাবে:
স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, মূল্যবান কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ ইত্যাদি।
যা নেওয়া যাবে না:
ছুরি, কাঁচি, সুই, ম্যাচ, লাইটার, এবং ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল পদার্থ (লিকুইড) নেওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বা যাত্রী–ক্রুদের অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বস্তু নেওয়া যাবে না।
তরল পদার্থের সীমা:
শ্যাম্পু, হেয়ার জেল, লোশন, পারফিউম, ক্রিম, নেইলপলিশ, স্প্রে ইত্যাদি তরল হিসেবে গণ্য হয়। এগুলোর প্রতি আইটেম ১০০ মিলিলিটারের বেশি হলে হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া যাবে না।
🧱 ২) বুকিং লাগেজ
ওজন ও আকারের সীমা:
সাধারণত ২৭ ইঞ্চি লম্বা, ১১ ইঞ্চি চওড়া ও ১৪ ইঞ্চি গভীরতা পর্যন্ত ব্যাগ বুকিং লাগেজ হিসেবে ধরা হয়। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স এক বা দুই পিস লাগেজ বিনা চার্জে (free baggage allowance) নিতে দেয়।
ক্লাস ও ফ্লাইটভেদে সীমা:
বিজনেস ক্লাসে: দুটি ব্যাগে ৩০ কেজি করে মোট ৬০ কেজি
ইকোনমি ক্লাসে: দুটি ব্যাগে ২০ কেজি করে মোট ৪০ কেজি
দুই বছরের কম বয়সী শিশু: একটি ব্যাগে ১০ কেজি পর্যন্ত এবং স্ট্রলার (শর্তসাপেক্ষে) নেওয়া যায়।
যা রাখা নিষেধ:
বুকিং লাগেজে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল, ট্যাব বা মূল্যবান জিনিস রাখা নিষিদ্ধ। এসব সবসময় হ্যান্ড লাগেজে রাখতে হয়। এছাড়া পাওয়ার ব্যাংক বা লিথিয়াম ব্যাটারি চালিত ডিভাইস বুকিং লাগেজে রাখা যাবে না।
দাহ্য পদার্থ:
সেভিং ফোম, পারফিউম, জীবাণুনাশক ইত্যাদি ৫০০ মিলিলিটারের বেশি পরিমাণে নেওয়া যাবে না।
💡 পরামর্শ
এয়ারলাইন, গন্তব্য ও ভ্রমণ শ্রেণি অনুযায়ী লাগেজের নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ওয়েবসাইটে গিয়ে লাগেজ সীমা, অনুমোদিত পণ্য ও নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স