অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ফাঁস: এনায়েত করিমের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ফাঁস: এনায়েত করিমের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ফাঁস: এনায়েত করিমের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

নোবেলজয়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম (মাসুদ করিম) রিমান্ডে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এনায়েত করিমের নেতৃত্বে দেশ-বিদেশে একাধিক বৈঠক হয়, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কিছু গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন। সেই বৈঠকগুলোতেই অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

জবানবন্দিতে এনায়েত করিম জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পরিকল্পনায় একজন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদকে প্রধান উপদেষ্টা এবং আরও কয়েকজনকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


বিদেশি অর্থায়ন ও প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা

সূত্র বলছে, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আওয়ামীপন্থী একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ এনায়েত করিমকে ৬ কোটি টাকা দিয়েছে। তিনি সম্প্রতি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় জবানবন্দিতে যেসব নাম উঠে এসেছে, তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক বিএনপি প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার পেছনেও এই তদন্তের সংযোগ থাকতে পারে।


ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি অফিসের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশ এনায়েত করিমকে আটক করে। তখন তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক দাবি করেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, তার সিআইএ পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি ২০১৪ সালে বিএনপি ভাঙার অ্যাসাইনমেন্টেও জড়িত ছিলেন বলে জানান, যা ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহযোগিতায় করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে যখনই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়, তখন আমি দেশে এসে বিনিয়োগের নামে কিছু অর্থ খরচ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিই।”


📅 বছর / সময়কাল🔍 গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
২০১৪বিএনপি ভাঙার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন; ডিজিএফআই ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহযোগিতা পান।
২০১৮নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ব্যবসায়ী পরিচয়ে বিনিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন।
২০২৪আবারও নির্বাচনের আগে ঢাকায় গোপনে আসেন; কয়েকটি “রাজনৈতিক বিনিয়োগ” প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকার।
২০২৫ (সেপ্টেম্বর)মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার; নিজেকে সিআইএ কর্মকর্তা দাবি করেন।
রিমান্ডে স্বীকারোক্তিনিজের পরিচয় ভুয়া বলে স্বীকার; অন্তর্বর্তী সরকার পতনের পরিকল্পনা ফাঁস করেন।
অক্টোবর ২০২৫ষড়যন্ত্রে জড়িতদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি; তদন্তে নতুন তথ্য যোগ হচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ষড়যন্ত্র

ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এল, যখন ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরোধ চলছে। একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে নেতারা।

           🌐 বিদেশি সংযোগ
               │
 ┌─────────────┼─────────────┐
 │                             │
সিআইএ পরিচয়ের অপব্যবহার     ‘র’-এর সঙ্গে যোগাযোগ
 │                             │
 └─────────────┬─────────────┘
               │
      🧍 এনায়েত করিম (মাসুদ করিম)
               │
 ┌─────────────┼─────────────┐
 │                             │
💼 আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী   🧠 অর্থনীতিবিদ (সম্ভাব্য প্রধান উপদেষ্টা)
 │                             │
 └─────────────┼─────────────┘
               │
        🤝 সুশীল সমাজ + প্রভাবশালী রাজনীতিক
               │
        🏛️ নতুন সরকার গঠনের পরিকল্পনা
  

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র ও আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এনায়েত করিমের স্বীকারোক্তি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *