জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ড. মেহেদী উল্লাহ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ড. মেহেদী উল্লাহ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | সুতিয়া নিউজ 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে শর্ত শিথিল, স্বজনপ্রীতি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ড. মেহেদী উল্লাহকে ঘিরে এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরি বঞ্চিত প্রার্থীরা।

সাধারণত শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ৩.৫০ সিজিপিএ থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ২০১৫ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ যোগ্যতার অজুহাতে শর্ত শিথিল করা হয়। এর সুযোগ নেন মেহেদী উল্লাহ, যিনি অনার্সে পেয়েছিলেন মাত্র ৩.৩১ সিজিপিএ। আবেদনপত্রে তিনি দেখান একটি গ্রন্থ ‘ফোকলোরের প্রথম পাঠ’ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেমকনের দেওয়া সাহিত্য পুরস্কারকে ‘বিশেষ যোগ্যতা’ হিসেবে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বইটির অনেকাংশই এশিয়াটিক সোসাইটির প্রকাশনা থেকে কপি-পেস্ট করা এবং পুরস্কারটিও কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নয়।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে উপাচার্যের পিএস খন্দকার এহসান হাবিবের ভাই হওয়ার সুবাদে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। তখন সিন্ডিকেটে তার নিয়োগ বাতিল হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ওই গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

এখানেই শেষ নয়। শিক্ষক হওয়ার পরেও তিনি নাকি পছন্দের শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিতে ফলাফল কারসাজিতে জড়ান। প্রদিতি রাউত প্রমা নামে এক শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিতে অন্য যোগ্য প্রার্থীর সিজিপিএ কম দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রমার নিয়োগপত্র সংক্রান্ত নথি সাবেক ভিসি সৌমিত্র শেখরের কক্ষ থেকে উদ্ধার হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন,
“আমি অনার্স-মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েও বঞ্চিত হয়েছি। অথচ যিনি ৩.৩১ সিজিপিএ পেয়েছেন, তিনি ভুয়া যোগ্যতা দেখিয়ে শিক্ষক হয়েছেন। স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির কারণে আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।”

২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়ও মেহেদী উল্লাহ শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ না করে বরং আন্দোলন দমনে কঠোর ভূমিকা নেন বলে অভিযোগ আছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে তার চাকরি স্থায়ীকরণ স্থগিত করেছে এবং শোকজ নোটিশ দিয়েছে। বর্তমানে একাডেমিক অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. মেহেদী উল্লাহ দাবি করেন,
“আমি বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছি। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি। নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *